Printfriendly

মিডিয়ার ইসলাম বিদ্বেষ ও সভ্যতার দ্বন্দ

islamophobia


 
খুব সাম্প্রতিক ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রথম আলো পত্রিকা একেবারে পুরোদম্ভুর  ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়েছে এবং অন্যান্য পশ্চিমা মিডিয়া,কলামিস্টের  এই ইস্যুতে চুপ থাকা, একচোখা নীতি অবলম্বন, ইসরায়েলকে অবৈধ আগ্রাসনের ব্যাপারে মৌন সমর্থন যোগানোর জন্য ব্যাপক সমালোচনা করলো । [1]  

কিন্তু এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে  প্রথম আলো এত কেন ফিলিস্তিনি মুসলিমদের প্রতি দরদী হয়ে উঠলো ! সেটার উত্তর  একটু মাথা খাটালেই পাওয়া যায় । সারাবছর ইসলামী সংস্কৃতি,মূল্যবোধ,ইসলামী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে জঘন্য মাত্রার তথ্যসন্ত্রাস চালিয়ে,পশ্চিমা প্রভুদের শেখানো মুখস্থ বুলি আওড়িয়ে,  স্পর্শকাতর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিমদের  ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে দু-চারটা কথা বলে তাদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও কাটতি ধরে রাখা ।

আমার লেখাটার উদ্দেশ্য প্রথম আলোর মত  সংবাদমাধ্যমগুলাকে মুসলিমরা যেন কখনো নিজেদের বন্ধু মনে না করে এবং বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার   ইসলামবিদ্বেষী তৎপরতা,পাশ্চাত্যে সন্ত্রাসবাদের বাস্তবতা, মুসলিমদের দূরাবস্থা ও সভ্যতার দ্বন্দ সম্পর্কে কিঞ্চিৎ জানান দেওয়া ।

প্রথম আলো ইসলামের আবশ্যকীয় যেমন__  আমল নিকাব পড়া, দাড়ি রাখা এবং টাকনুর উপর প্যান্ট পড়াকে ধর্মীয় উগ্রবাদ হিসেবে প্রচার করেছে বিভিন্ন সময় । [ 2]
পত্রিকাটির দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট হয়ে যাওয়া উচিত সবার সামনে। প্রথম আলো পত্রিকার  মত মিডিয়াগুলো পশ্চিমা চিন্তা-দর্শনের ফেরিওয়ালা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর দেশীয় সংস্করণ ।  তাদের ইসলামী সংস্কৃতি বিরোধী মনোভাবও পশ্চিমের আদলে গড়া যা চিন্তাশীল মানুষ মাত্রই বুঝে আসবে ।

মিডিয়ার ইসলাম বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনার আগে মিডিয়া সম্পর্কে আরও কিছু বিষয় পরিষ্কার করা উচিত সঠিক উপলব্ধির সুবিধার্থে।

মিডিয়া সমাজ ও মানুষের জীবনের উপর  গভীর প্রভাব রাখে । [3]

বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া পন্ডিত নোয়াম চমস্কি তাঁর প্রোপাগান্ডা মডেলে দেখিয়েছেন ম্যাস মিডিয়া কিভাবে ক্ষমতাবানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক সমাজে এবং উনি আরও মনে করেন বিশ শতকের অর্ধেকের পরে মিডিয়া পৃথিবীকে পরিবর্তন করে দিয়েছে । [4]

আমেরিকান মুসলিম রাজনীতিবিদ ম্যালকম এক্স  বলেছিলেন__“মিডিয়া হলো  পৃথিবীর বুকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর সত্ত্বা । তাদের ক্ষমতা আছে নির্দোষকে অপরাধী ও অপরাধীকে নির্দোষে পরিণত করার, এবং এটা সত্যিই এক শক্তি । কারণ, তারা জনসাধারণের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে ।” [5]  

বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার ইসলাম বিদ্বেষঃ

 

ইসলামের বিরোধীতা করা  ও বিদ্বেষ চালানো পশ্চিমা সভ্যতার অনেক পুরনো ইতিহাস কিন্তু এই মিডিয়ার যুগে তা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে এসে কোন ধর্মের বিরুদ্ধে মিডিয়াতে  সবচেয়ে বেশি প্রচার-প্রসার চলে ? উত্তরটা হবে "ইসলামের" ।  

•  ২০১৬ সালে CAIR এবং ক্যালিফোর্নিয়ার
   বিশ্ববিদ্যালয়ের Berkeley Center for race
   & gender একসাথে  গবেষণার ফল প্রকাশ
   করে  “Confronting Fear: Islamophobia
   and its  Impact in the United States”
   প্রতিবেদনে । এই প্রতিবেদনে জানা যায়
   ২০০৮-২০১৩ সালের মাঝে ইসলামোফোবিয়া
   ছড়াতে নিয়োজিত দলগুলো অনুদান পেয়েছে
   কমপক্ষে ২০৫ মিলিয়ন ডলারের অর্থ। [6]
   বিশাল নেটওয়ার্ক এভাবে অর্থায়নের ফলে
   গড়ে উঠেছে ইসলাম বিদ্বেষ প্রচারের জন্য
   এবং ‘মিডিয়া’  ইসলাম বিদ্বেষী নেটওয়ার্কের
   অন্যতম বৈশিষ্ট্য । [7]
   
   
•  অ্যালবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের  
   গবেষণায় উঠে এসেছে যে মুসলিম নামধারী
   কেউ কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা
   করলে তা ৩৫৭% বেশি প্রচার পায়
   আমেরিকান মিডিয়ায় । আরও উঠে এসেছে
   অমুসলিম কেউ সন্ত্রাসী হামলা করলে সেটা
   মিডিয়ায় শিরোনাম হয় গড়ে ১৫ টি,যেখানে
   মুসলিম কেউ সন্ত্রাসী হামলা করলে সেটি
   শিরোনাম  হয় গড়ে ১০৫ টি । [8]

•  আমেরিকার ১৭ টি জাতীয় ও আঞ্চলিক
    সংবাদপত্রের ৮৫০০০০ আর্টিকেল থেকে
    পরীক্ষা চালানো হয়েছিল পত্রিকাগুলোর
    ক্যাথলিক,ইহূদী ও হিন্দুদের তুলনায়
    মুসলিমদের চিত্রিত করার অবস্থা
    যাচাইয়ের জন্য । পরীক্ষার ফলে দেখা
    যায় ‘ইসলাম’ এবং ‘মুসলিম’
    সম্পর্কিত নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করে
    সংবাদ প্রচার অন্যান্য ধর্মের তুলনায় অনেক
    বেশি। [9]

• ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত
  গবেষণায় দেখা যায় যে, ব্রিটেনের
  মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে মূলধারার মিডিয়ার
  প্রচারণা মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন
  পরিবেশ তৈরিতে অবদান রেখে চলেছে সেই
  দেশে । [10]

• ব্রিটিশ পণ্ডিতদের থেকে পাওয়া যায়
  মিডিয়াতে ‘ইসলামী বোম’,‘সহিংস ইসলাম’,
  ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ শব্দগুলো
  ইসলাম এবং মুসলিমদের ক্ষেত্রে যেভাবে
  ব্যবহৃত হয় সেই তুলনায় একই শব্দগুলো
  অমুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না।যা
  ইসলামের একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি
  করছে । [11]  

• জার্মানিতে মুসলিম শরণার্থীদের আশ্রয়
  দেওয়ার পর জার্মান মিডিয়ায় সর্বদা মুসলিম
  শরণার্থীদের কে যৌন সহিংসতায় অপরাধী
  হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা ব্যাপক । [12]
  কিন্তু ২০১৫ সালে(যখন মুসলিম বিশ্ব থেকে
  শরণার্থীরা আসতে শুরু করে জার্মানীতে)
  পুরো জার্মানিতে যৌন অপরাধের ঘটনা
  ঘটেছে ৪৭০০০, যার ৩.৬% বহিরাগতদের
  দ্বারা ঘটেছে।বাকি ৯৬.৪% যৌন অপরাধ
  ঘটিয়েছে জার্মান নাগরিকরাই ! [13]
  ইসলামকে বর্বর ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন
  করার আবেশ  ইতালির মিডিয়াজুড়ে ছেয়ে
  আছে । [14]

• ফ্রান্সের মিডিয়া মুসলিমদের ক্ষেত্রে
  প্রতিকূল অবস্থানে থাকে । [15] রাশিয়ার
  সরকার দ্বারা পরিচালিত  ‘রাশিয়ান টুডে’
  মিডিয়া ইউরোপে অবস্থিত মুসলিমদের নিয়ে
  যখন সংবাদ প্রচার করে তখন সেখানে
  মুসলিম বিদ্বেষী সুর উপস্থিত থাকে । [16]
  ইউরোপের বিভিন্ন মিডিয়ায় মুসলিমদের
  প্রতিনিয়ত উগ্র,ধর্মান্ধ,সন্ত্রাসী,জিহাদী,ধর্ষক
  এবং তাদের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতি
  হুমকি হিসেবে দেখানো হচ্ছে । [17]

•  One Path Network এর আর্টিকেলে উঠে  
   আসা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির
   সংবাদপত্রগুলোর ইসলাম বিদ্বেষ রীতিমতো  
   ভয়াবহ । [18] কানাডার মিডিয়া মুসলিমদের
   ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উপস্থাপন করে । [19]
   ল্যাটিন আমেরিকার মিডিয়াও ইসলাম
   বিদ্বেষের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে । [20]

•  অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টুয়ার্ট
   চেম্বার্সের কলমে উঠে এসেছে পশ্চিমা
   মিডিয়া ভিত্তিহীন পূর্বানুমানের উপর
   ইসলাম বিদ্বেষ চালিয়ে থাকে [21] এবং
   ইসলামী মৌলবাদকে বিশ্বের সব সমস্যার মূল
   কারন হিসেবে বিবৃতি তো আগেই দেওয়া
   হয়েছে ।  [22]

•  অপরাধী মুসলিম হলে ৪.৫
   গুণ বেশি সময় নিয়ে প্রতিবেদন করার নিয়ম
   পশ্চিমা মিডিয়াই তৈরী করেছে যা থেকে
   সহজেই অনুমান করা যায় পশ্চিমা মিডিয়ার
   ইসলামের প্রতি আক্রোশের অবস্থা । [23]

• পশ্চিমা দেশগুলোর বাহিরে  
   চায়নার  মিডিয়াতেও ইসলাম বিদ্বেষ
   চরম [24] । উপমহাদেশের আঞ্চলিক
   সুপারপাওয়ার আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ
   ভারতের মিডিয়াও হিংস্র হায়েনার মত
   মুসলিমদের বিরুদ্ধে  তথ্যসন্ত্রাস চালিয়েই
   যাচ্ছে  ক্রমাগত । [25]

 •  জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির
    রিসার্চার নাথান লিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী
    ইসলাম বিদ্বেষ বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে
    মিডিয়ার শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে । [26]
    
    

পাশ্চাত্যের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের বাস্তবতাঃ

সারা বিশ্বে মিডিয়া  ইসলাম এবং মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ রটিয়ে এমন এক বিকৃত ভাবমূর্তি তৈরী করে রেখেছে যে সন্ত্রাস আর সহিংসতার বিষয়ে মনে পরলেই  মস্তিষ্কে ইসলাম এবং মুসলিমদের চিত্র ভেসে ওঠে । কিন্তু খোদ বিশ্বমোড়ল আমেরিকার মাটিতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের বাস্তবতা নিয়ে যথা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায় লুথার কলেজের খ্যাতনামা সহযোগী অধ্যাপক টড এইচ গ্রীনের থেকে এবং এতে অনেক চেপে যাওয়া সত্য দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে যায় ।

তিনি বলেন,‘ ৯/১১ এর পর থেকে জঙ্গি শব্দ শুনলেই আমাদের মানসপটে কোনো মুসলিমের চেহারা ভেসে উঠে৷ সিএনএন বা বিবিসি-তে কোনো সন্ত্রাসী হামলার ব্রেকিং নিউজ শোনার সাথে সাথে অনেকেই ভেবে বসেন—নিশ্চয় কোনো মুসলিমই এই আকাজ ঘটিয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডগুলো শুধু মুসলিমরাই  করে বেড়ায় এমনটাই সবাই ভাবে । কিন্তু বাস্তবতা তা নয় । দীর্ঘ সময়ের বিচারে এহেন দাবি ধোপে টিকে না । আমেরিকা ও ইউরোপে ঘটা সন্ত্রাসী হামলাগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যে বাস্তবতা জানা গেছে সেটা আমরাই প্রায় কেউই জানি না বা স্বীকার করি না, আর তা হলো—অধিকাংশ সন্ত্রাসী হামলা ঘটিয়েছে অমুসলিমরা । এফবিআই এর হিসেব মতে, ১৯৮০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত আমেরিকার মাটিতে ঘটা সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ৯৪% ঘটিয়েছে অমুসলিমরা । আমাদের মনে রাখতে হবে ৯/১১/২০০১ এর ঘটনাও কিন্তু এই হিসেবের মধ্যে শামিল । যদিও এই ব্যাপারগুলো আরো ঘোরালো, স্রেফ মাথাগুনে সমাধান হবেই এমন না । এসকল হামলার খুব ক্ষুদ্র অংশের জন্য মুসলিমরা দায়ি । তবে বড় মাপের ক্ষতির জন্য যে বেশি লোকের দরকার হয় তা না, ৯/১১ এর ঘটনাই দেখুন না । তবে একই অভিযোগ কিন্তু অমুসলিমদের জন্যও খাটে । যেমন ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমা শহরের প্রশাসনিক ভবনে টিমোথি ম্যাকভেই হামলা চালিয়ে বহু লোককে হত্যা করে । আমেরিকাতে সংঘটিত সহিংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোকে ঘাটলে আমরা দেখতে পাই উগ্রবাদি মুসলিমরা এসবের মূল হোতা নয় । ট্রায়াঙ্গেল সেন্টার অন টেররিজম এন্ড হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র তথ্য অনুযায়ী ৯/১১ এরপর থেকে নিয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬৯ জন লোক উগ্রবাদি মুসলিমদের হাতে নিহত হয়েছে । অথচ একই সময়ে অন্যদের দ্বারা দুই লাখ বিশ হাজারেরও বেশি আমেরিকান নিহত হয়েছে। এইদুয়ের তুলনায় বোঝা যায় মুসলিমদের হাতে নিহতের সংখ্যা অন্যদের তুলনায় কতটা অপ্রতুল ।’ [27]

ইসলাম বিদ্বেষ ও মুসলিমদের উপর বিপর্যয়ঃ

ইসলাম এবং মুসলিমদের বিপক্ষে বহুমুখী মিডিয়া প্রচারণার ফলে দুনিয়াব্যাপী ইসলাম বিদ্বেষ দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে আর সেই দাবানলের  আগুনে দগ্ধ হচ্ছে প্রতিনিয়ত মুসলিমরা ।

২০১৫ সালে আমেরিকার মসজিদগুলোর ওপর ৭৮ বার হামলা করা হয়েছে যা আগের অতিবাহিত ২ বছরের তুলনায় ৩গুন । [28] যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিদ্ধেষী আক্রমণের হার ২০১৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২%, যার লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৬১% ই নারী । [29]  ডেনমার্কের মোট জনসংখ্যার ৫% অথচ বিশাল অনুপাতে আক্রমণের  লক্ষ্যবস্তু  হয় মুসলিমরা। [30]  সুইডেনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণের ঘটানা ঘটছে অহরহ । [31]  ফ্রান্সে গতবছর  প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের কাছে দুই মুসলিম আলজেরীয় বোনকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং যা বলা হয়েছিল, সেটা হয়তো ভোলার নয়__  "তোমরা নোংরা আরব, আমাদের দেশ থেকে বের হয়ে যাও ।" [32]  কিন্তু আজকের ফ্রান্স কাদের সম্মান,সম্পদ লুট করে এই অবস্থানে এসেছে সেই কথা বলেনি সে সভ্য,আধুনিক আলোকিত ফরাসি আক্রমণকারী । [33] এছাড়া ফ্রান্সে ইসলামী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র এবং মুসলিমদের কোণঠাসা করা বহাল তবিয়তে  বিদ্যমান ।  [34]  ২০১৭ তে পোল্যান্ডে  সবচেয়ে বেশি বর্ণবাদী আক্রমণের স্বীকার ছিল মুসলিমরা । [35]  স্পেনেও মুসলিমরা কম বৈষম্যের স্বীকার  হচ্ছে না । [36] জার্মানিতে ২০২০ সালে ৯০০ এর উপর আক্রমণ হয়েছে মুসলিমদের উপর । [37]  ২০১৮ সালে মুসলিমদের ওপর শারীরিক ও মৌখিক আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ইতালিতে । [38] সাথে অন্যান্য  সামাজিক ক্ষেত্রেও মুসলিমের প্রতি ঘৃণার চাষাবাদ তো
রয়েছেই । [39]

রাশিয়ার মস্কোতে মসজিদ নির্মাণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল একসময় । [40] যদিও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সাম্প্রতিক বলেছেন রাশিয়ার মাটিতে কোন ইসলাম বিদ্বেষ বরদাস্ত করা হবে না । [41] বিভিন্ন সময় ইউরোপে সংগঠিত হওয়া অনেক ইসলাম বিদ্বেষী ঘটনা প্রকাশ্যেই আসে নি । [42]

সাম্প্রতিক ইউরোপের ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনের গাজাতে মুসলিম গণহত্যায়   সমর্থন ইসলাম এবং মুসলিম বিদ্বেষের এক অনন্য উপাখ্যান । [43]

কানাডাতে ২০২১ এর রমজানে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক মুসলিম পরিবারের প্রায় সবাইকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় । [44]  অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিমদের বেশিরভাগ সময় পাবলিকলি ইসলাম বিদ্বেষী আক্রমণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে । [45]  

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের এক মসজিদে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট বন্দুক নিয়ে ঢুকে নামাযরত মুসলিমদের ওপর টানা গুলি-বর্ষণ শুরু করে । সেই হামলায় অনেক নিরীহ মুসলিম প্রাণ হারায় । উল্লেখ্য,নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের  অভিবাসী মুসলিমদের উপর উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে হামলা করা হয়েছিল এবং ব্রেন্টন ট্যারান্টের মুসলিম অভিবাসীদের প্রতি এমন জঘন্য ও বিরূপ মনোভাব গড়ে ওঠার জন্য অস্ট্রেলীয় মিডিয়ার দায় এড়ানো কোনক্রমেই সম্ভব নয় । [46] ল্যাটিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ  দেশ ব্রাজিলেও ইসলাম বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে । [47]

স্যেকুলার লিবেরালদের গডফাদার ব্যারাক ওবামার প্রশাসনের যুদ্ধাবস্থায় সকল মুসলিম পুরুষকে সন্ত্রাসী বিবেচনা করা একদম সরাসরি পাশ্চাত্যের ইসলাম-বিদ্বেষের পর্দা উন্মোচন  করে দেয় । [48]  

গত শতকের ‘জুইশ হলোকাস্টের’ পর এই শতাব্দীতে বিধ্বংসী ‘উইঘুর হলোকাস্ট’ চলছে চায়নাতে। যেখানে মুসলিম উইঘুরদের পরিচয়,অস্তিত্ব, ধর্ম মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে চাইনিজ সরকার। যা বুঝতে হলে চাইনিজ জনগণের তাদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রার প্রচার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে, যেসবের উপর ভিত্তি করে উইঘুরদের ধ্বংস করার জন্য এক একটি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প গড়ে উঠেছে চায়নাতে। [49]  গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল,পশ্চিমা পক্ষপাতদুষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলও চায়নার উইঘুর মুসলিমদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন চালানোর অস্ত্র হিসেব ব্যবহৃত হচ্ছে ।  [50]

ভারতের মুসলিমদের আকাশে কঠিন দূর্যোগ ঘনিয়ে আসছে যা খুব খারাপ ফল বয়ে আনবে।Genocide Watch এর প্রতিষ্ঠাতা ড.
গ্রেগরি স্ট্যানটনের গবেষণায় উঠে এসেছে পুরো ভারতজুড়ে মুসলিমদের ওপর গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে। ড. স্ট্যানটনের মতে কোন জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানো হয় পর্যায়ক্রমে ১০ টি ধাপের মাধ্যমে । ভারত এখন গণহত্যার ১০ ধাপের ৬ নম্বর ধাপে অবস্থান করছে । এটা হলো প্রপাগাণ্ডার মাধ্যমে সমাজের ব্যাপক মেরুকরণের ধাপ । ভারতীয় ম্যাস মিডিয়া,আরএসএস আইটি সেল হাজার হাজার হোয়াটসএপ গ্রুপ,ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে । তবে আসাম ও কাশ্মীরের মতো কিছু কিছু প্রদেশে অবস্থান করছে গণহত্যার ১০ ধাপের ৮ নাম্বার ধাপে । ঠিক এর পরের ধাপটাই হলো পাইকারি গণহত্যার ধাপ । [51]

আজ বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের দূরবস্থার জন্য পশ্চিমা লিবেরাল সাম্রাজ্যবাদী  এবং তাদের চিন্তা-দর্শন ফেরি  করা বাকি মিডিয়াগুলোর অনস্বীকার্য ভূমিকার কথা আর স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই । আশার সংবাদ মিডিয়ার এত এত ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সত্ত্বেও ইসলামের প্রচার-প্রসার আটকে থাকছে না । ইসলাম পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম । [52]

সভ্যতার দ্বন্দঃ

পশ্চিমা মিডিয়া এবং তাদের সমমনা মিডিয়ার লাগামহীন প্রপাগান্ডা যতটা ইসলামের ক্ষেত্রে হয় ততটা অন্য কোন মতবাদ বা ধর্মের ক্ষেত্রে হয় না ! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে ইসলামের বিরুদ্ধেই  কেন তাদের এত ঘৃণা ! এত বিরুদ্ধবাদীতা ! সাম্রাজ্যবাদীদের ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধই আগামীতে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এমন সম্ভাবনাও সামনে আসছে। [53]

ইসলামের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের এমনিতেও ঐতিহাসিক সংঘর্ষ রয়েছে । [54] পশ্চিমের  জনগণ ইসলামকে তাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, সভ্যতার জন্য হুমকি মনে করে । [55] কারণ ইসলাম একটা পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা । ইসলামে নিজস্ব অর্থনীতি,বিচারব্যবস্থা,সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা বিদ্যমান । মানবজীবনের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা ইসলাম দেয় । [56]

এটাই হয়তো  ইসলামের পশ্চিমা উদারনৈতিক-গণতান্ত্রিক-পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার প্রতিদ্বন্দী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মূল কারণ । এই বিশ্বব্যবস্থাকে অতিক্রম করে তার জায়গায় প্রতিস্থাপন হওয়ার ক্ষমতা কেবল ইসলামেরই রয়েছে ।

পশ্চিমা বুদ্ধিজীবি,লেখক,রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা ইসলামকে আলাদা একটা স্বতন্ত্র ওয়ার্ল্ডভিউ তথা বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গী  হিসাবে দেখেন । গত শতকে কমিউনিজম বিশ্বব্যবস্থার পতনের পর ইসলাম পশ্চিমের উদারনৈতিক পুঁজিবাদী সভ্যতার এক নম্বর শত্রু হিসেবে বিবেচিত হয় ।

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর স্যামুয়েল পি হান্টিংটনের বিশ্লেষণে পাওয়া যায়, ‘‘ইসলামী মৌলবাদ পশ্চিমাদের জন্য মূল সমস্যা নয়; বরং সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন সভ্যতার ধারক হওয়ার কারণে স্বয়ং ইসলামই তাদের মূল সমস্যা । কারণ এ ধর্মের অনুসারীরা তাদের নিজেদের জীবনাচার বা ইসলামের সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে; যদিও নিজেদের শক্তি-সামর্থের দীনতা বর্তমানে তাদের মনকে কিছুটা দুর্বল করে রেখেছে । একইভাবে  ইসলামের জন্যেও CIA, কিংবা আ্যামেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সত্যিকার কোনো সমস্যা নয়, বরং পুরো পশ্চিমা সভ্যতাই তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা । কারণ তারাও বিশ্বাস করে যে, তাদের জীবনধারা হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বিশ্বজনীন । এমনকি তারা এ-ও বিশ্বাস করে যে, শাস্তি প্রয়োগ করে হলেও গোটা পৃথিবীর মানুষকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা উচিত । ইসলাম এবং পশ্চিমা বিশ্বের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পেছনে এটাই হলো মূল কারণ।” [57]

নব্য-নাস্তিকতাবাদের সূচনাকারী স্যাম হ্যারিসও আমেরিকার তথাকথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর একই বক্তব্য দিয়েছে,
‘‘দেখুন, শান্তির এক ধর্ম যা উগ্রবাদীদের দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গেছে, এমন ইসলামের সাথে আমাদের যুদ্ধ না কিন্তু । বরং কুরআন ও হাদিসে মুসলিমদের যে জীবনব্যবস্থা দেয়া হয়েছে আমরা তার সাথেই যুদ্ধে লিপ্ত’’ । [58]

২০১৬ তে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সরাসরি মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে বলেছে, ‘যদি তুমি আমেরিকা আর তার স্বাধীনতা কে ভালোবাসো এবং সন্ত্রাসকে ঘৃণা কর তাহলে এখানে থেকে আমাদের জিততে এবং একসাথে ভবিষ্যৎ  গড়তে সাহায্য কর । [59] এর অর্থ দাঁড়ায় মুসলিমদের ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী বাদ দিয়ে পশ্চিমা আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে হবে এবং ইসলামকে  সার্বজনীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া মানেই সন্ত্রাস ! ঠিক যেভাবে আল্লাহ কুরআনে  বলেছেন,, "কাফিররা চায় তোমরাও যেন তাদের মত কুফুরে লিপ্ত হও ।" [60]

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের ‘রাজনৈতিক ইসলাম’কে স্বাধীনতা ও  
ইউরোপীয় জীবনধারার জন্য বিপজ্জনক
ভাবার মাধ্যমে ইসলাম ও পশ্চিমা সভ্যতার
সাংঘর্ষিকতা নিয়ে নির্মম ও তিক্ত বাস্তব এক
সত্য পাওয়া যায় । [61] চেক প্রজাতন্ত্রের
প্রেসিডেন্টও কোন রাখঢাক ছাড়াই ইসলামকে
তাদের (!)মহান পাশ্চাত্য সভ্যতার শত্রু
হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । [62]

লন্ডনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল কুদস আল আরাবীর স্বনামধন্য  সম্পাদক আবদুল বারি আতওয়ানের কলমে পাওয়া যায়,‘শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মুসলিম মনে করে আমেরিকার যুদ্ধ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নয়,বরং ইসলামের বিরুদ্ধে ।’[63]

লেখিকা রেবেকা বায়নাম ইসলামকে স্পষ্টতই এক ধর্মীয়-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসবে চিহ্নিত করেছেন এবং উনার মতে পশ্চিমের মুসলিম বিশ্বকে ধর্মনিরপেক্ষ করে গড়ে তোলার প্রকল্প এক অবাস্তব স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না । [64]

বিশিষ্ট একাডেমিক এডওয়ার্ড সাঈদের মতেও ইসলামি প্রাচ্যই  কেবল পশ্চিমকে রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ জানানোর সক্ষমতা রাখে । [65]

উপরে উল্লিখিত বক্তব্যসমূহ থেকে ইসলাম এবং পশ্চিমা বিশ্বের আদর্শিক এবং সভ্যতাকেন্দ্রিক দ্বন্দের মাত্রা একদম সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে । সমকালীন প্রেক্ষাপটে এসে পশ্চিমের সাথে আলোচনার সময়  ইসলামকে  সভ্যতাকেন্দ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা অনেক বেশি অপরিহার্য । দুই ভিন্নধর্মী সভ্যতাই  আজ পৃথিবীতে নিজেদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের জানান দিতে প্রস্তুত । এক সভ্যতার ভিত্তি বস্তুবাদ, অন্য সভ্যতা  স্রষ্টা প্রদত্ত ওহীর উপর দণ্ডায়মান । তাই অবিশ্যম্ভাবী দুই সভ্যতার মাঝে বিরোধ হবে যা আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি ।   
 
আদর্শিক ও সভ্যতার দ্বন্দের জের ধরে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম বিশ্বে সর্বগ্রাসী ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে । মিডিয়া ব্যবহৃত হচ্ছে সহায়ক হিসেবে ।

ছলচাতুরতার সাথে ইসলামকে সংস্কার করার জন্য  সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের  অন্যতম হাতিয়ার  ‘মডারেট ইসলাম’ নামক ভ্রান্ত মতবাদ মুসলিম বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে যা  পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার জন্য সহায়ক,  অনুকূল  [66] এবং মুসলিম বিশ্বে নারী অধিকারের হিকমাহ  তুলে  তাদের অনৈতিক, অবৈধ আগ্রাসনের বৈধতা নির্মাণ তো রয়েছেই । [67]

উপসংহারঃ

সর্বোপরি আমরা মুসলিমরা আজ চতুর্মুখী  আক্রমণের স্বীকার হয়ে হীনমন্যতায় বিপর্যস্ত এবং পরাজিত মানসিকতাতে জর্জরিত ।এমতাবস্থা থেকে উঠার জন্য ইলম অর্জন করা এবং সালাফে সলেহীনদের অনুসরণ করে    ইসলামের দিকে ফিরে আসার বিকল্প নেই।[68]  সেই সাথে পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থা,তথা এই বিশ্বব্যবস্থার সাথে ইসলামের অবস্থান এবং এই বিশ্বব্যবস্থার  দর্শন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে গিলানো মিডিয়াগুলার আগ্রাসন নিয়েও পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা অপরিহার্য । নতুবা আমরা পশ্চিমা বিশ্বের  গোলামির জিঞ্জির থেকে  কখনোই মুক্ত হতে পারব না !!

সব তন্ত্র-মন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে আমাদের সেই পথে হাঁটতে হবে যেই পথে হেঁটেছেন মহানবী সা. এবং উম্মাহর রাহাবার সাহাবায়ে কেরামগণ। আল্লাহ তায়ালা উত্তম সাহায্যকারী।

তথ্যসূত্র :

[1] একচোখা দাজ্জাল মিডিয়া ও কোণঠাসা ফিলিস্তিন,প্রথম আলো,১৯ মে ২০২১।

[2] শিক্ষার্থীদের মাঝে উগ্রবাদের প্রভাব প্রকট,প্রথম আলো,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭।

[3] HOW MASS MEDIA INFLUENCE OUR SOCIETY.National Institute of Mass Communication and Journalism,
Ahmedabad.

[4] HAFSA  SIDDIQUI. The Study of Role
of Print Media,in the Light of Noam Chomsky and Marshall Mcluhan theories: A case study of Pakistani Print Media(2007-2015);page vi.
University of Karachi.

[5] ম্যালকম এক্স একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার কর্মী।উনি পরবর্তীতে ইসলাম কবুল করেন।আগ্রহীরা উনাকে নিয়ে জানার জন্য উনার সেরা বক্তৃতা ও জীবনীর সংকলন ‘দ্য ব্যলট অর দ্য বুলেট’গ্রন্থটি পড়তে পারেন।

[6] ◼️ Confronting Fear: Islamophobia and its impact on United States 2013-2015 ; page vii

◼️ ইসলাম বিদ্বেষ নিয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে মুভমেন্ট পাবলিকেশনের ‘বিহাইন্ড দ্যা ইসলামোফোবিয়া’ বইটি ,ইলমহাউস পাবলিকেশনের ‘চিন্তাপরাধ’ বইয়ের ‘শ্বেতসন্ত্রাস ’ এবং মিনারাহ  পাবলিকেশনের ‘ভাবনার মোহনায়’ বইয়ের ‘ইসলামবিদ্বেষীতাঃআন্তর্জাতিক ব্যবসার নাম’ প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য।

[7] Ibid 45

[8] Terror attacks by Muslims receive 357% more press attention, study finds. The Guardian,20 July, 2018.

[9] Media portrayls of Muslims : a comparative sentiment analysis  of American newspapers,1996-2015 Erik Bleich & A.Maurits van der Veen.

[10] Why the British media is responsible for the rise in islamophobia in Britain.The Independent,April 4,2016.

[11] See Egorova; Tudor (2003) pp. 2–3, which cites the conclusions of Marquina and Rebolledo in: "A. Marquina, V. G. Rebolledo, 'The Dialogue between the European Union and the Islamic World' in Interreligious Dialogues: Christians, Jews, Muslims, Annals of the European Academy of Sciences and Arts, v. 24, no. 10, Austria, 2000, pp. 166–8. "

[12] Anti-Muslim racism and the racialisation of sexual violence: ‘intersectional stereotyping’ in mass media representations of male Muslim migrants in  Germany. Iris Wigger.
Culture and Religion,Volume 20,2019 - issue 3,Pages 248-271.

[13] Refugees responsible for tiny proportion of sex crimes in Germany despite far-right claims following Cologne attacks.The Independent,Feb 19,2016.

[14] EUROPEAN ISLAMOPHOBIA REPORT 2018; Page 486-488.

[15] FRENCH MUSLIMS WEATHER A HOSTILE MEDIA CLIMATE.Media Diversity Institute,Nov 30,2020.

[16] Islamphobia in Mainstream Canadian Media :  ‘‘Muslims as terrorists”.Youthrex,2017.

[17] Islamophobic Russian Media Undermines Moscow.
Crescent International.

[18] European Islamphobia Report 2017.

[19] Islam in the media 2017.OnePath Network,Feb 18,2018.

[20] Averting Islamophobia in Latin  America:The Media Coverage :From Orientalism to New Fears and Positive
Counter-Constructions.Mangana, Susana. Religions; Doha Iss. 12,  (Jan 2019): page 131-142.

[21] Islamophobia in western media is based on false premises.The Conversation, January 21, 2021.

[22] ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস,
সভ্যতার সংকট ;পৃ. ১৭।(বঙ্গানুবাদ সিয়ান পাবলিকেশন,১ম প্রকাশ ২০১৫)

[23] When  is it ‘Terrorism’?How The media Cover attacks by Muslim Perpetrators.Texus Public Radio, June 19, 2017.

[24] Islamophobia in China: news coverage,stereotypes, and chine muslim perceptions of themselves and Islam.Luwei Rose Luqiu & Fan Yang.Asian Journal of communication.Volume 28, 2018 - Issue 6.Pages 598-619.

[25] Indian media is waging a holy war against Muslims.It acts like hyenas.
The Print,April 13,2020.

[26] Media blamed for promoting Islamophobia.Arab News,May 16,2013.
 

[27] Associate Professor Todd H. Green, Presumed Guilty Why We Shouldn't Ask Muslims to Condemn Terrorism; P. 15-16 (Minneapolis: Fortress Press, 2018) (এই অনুবাদটি ডা. রাফান আহমেদ ভাইয়ের থেকে নেওয়া হয়েছে)

[28] Confronting Fear: Islamphobia and its Impact in the United States, p. viii.

[29] UK entering ‘uncharted territory’ of Islamophobia after Brexit Vote.The Independent,Jun 27,2016.

[30] EUROPEAN ISLAMOPHOBIA REPORT 2018;Page 259.

[31] Prayer room targeted in anti-muslim attack in Sweden.The Daily Sabah,Jun 29, 2019.

[32] Muslim women suffer knife attack near Eifell Tower.Anadolu Agency,
October 22,2020.

[33] France’s little-known history of looting in Algeria.Anadolu Agency,Apr 16,2020.

[34] France’s ‘anti-separatism’ law aims to legalize Islamophobia: Experts.The Daily Sabah,March 30,2021.

[35] National Procecutor’s Office,Poland.

[36] Alarm in Spain over increase in hate crimes,Islamophobia.InfoMigrants,
Mar 25,2019.

[37] Over 900 anti-Muslim attacks recorded in Germany in 2020.
The Daily Sabah,Feb 08, 2021.

[38] EUROPEAN ISLAMOPHOBIA REPORT 2018;Page 480.

[39] EUROPEAN ISLAMOPHOBIA REPORT 2018;Page 482-493.

[40] Islamphobia in Russia.Arab News,
Dec 1,2013.

[41] ইসলাম বিদ্বেষ বরদাস্ত হবে না : রাশিয়া,
দৈনিক জাগরণ,অক্টোবর ৩০, ২০২০।

[42] ইসলাম বিদ্বেষ সম্পর্কে বহু খবরই প্রকাশ পায় না,ডিডাব্লিউ বাংলা,আগস্ট ২১,২০১২।

[43] EU countries under fire for pro-Israel stance ignoring Palestinians.
The Daily Sabah,May 11, 2021.

[44] Four killed in ‘targeted’ attack on Muslims in Canada’s Ontario.
The National,Jun 8,2021.

[45] Islamophobic attacks mostly happen in public.Here’s what you can do if you see it or experience it.
The Conversation,December 3, 2019.

[46] “NOT ON OUR SOIL” – HOW AUSTRALIAN MEDIA NARRATIVES FUEL ISLAMOPHOBIA.Media Diversity Institute,Mar 19,2019.

[47] UNDER BRZIL’S NEW GOVERNMENT ISLAMOPHOBIA  CONTINUES TO RISE.Sojourners,APR 8, 2019.

[48] Islamophobia: A Bipartisan Project.
The Nation,Jul 2,2012.

[49] Islamophobia in China on the rise fuelled by online hate speech.The Independent, Apr 10,2017.

[50] Chinese Islamophobia was made in the West.Aljazeera,Jan 21,2019.

[51] Preparation for a genocide under way in India: Dr. Gregory Stanton.
Sabrangindia,Dec 14,2019.

[52] Sam Haris, The End of Faith: Religion, Terror, and the Future of Reason (New York: W. W. Norton, 2004) p. 109-110.

[53] Emmanuel Macron's War on Islamism Is Europe's Future.
Foreign Policy,Feb 24, 2020.

[54] Richard W. Bulliet, The Case for Islamo-Christian Civilization (New York, Columbia UP, 2004) page 45.

[55] Krzysztof Michalski,Religion in the New EUROPE;page 111.
(Central European University Press)

[56] পরিপুর্ণ ইসলামী জীবনব্যবস্থা এবং বর্তমান এই পাশ্চাত্য বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে জ্ঞান আহরণের জন্য রুহামা পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত মুফতি তারিকুজ্জামানের ‘ইসলামী জীবনব্যবস্থা’ গ্রন্থটি এক মাস্টারপিস।

[57] দ্য ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশান, ২১৭-৮।(বঙ্গানুবাদ সিয়ান পাবলিকেশন)

[58] Sam Haris, The End of Faith: Religion, Terror, and the Future of Reason (New York: W. W. Norton, 2004); page 109-110.

[59] Muslim Americans react to Bill Clinton’s Tuesday Night Speech.
NBC News,July 28, 2016.

[60] সূরা নিসা,আয়াত ৮৯ ।

[61] In Europe,Calls Grow Louder for United Front Against ‘Political Islam’.
VOA,November 5, 2020 .

[62] আসিফ আদনান,চিন্তাপরাধ;পৃ.১৮১।
(ইলমহাউস পাবলিকেশন)

[63] আবদুল বারি আতওয়ান,ইন সার্চ অফ এ সিক্রেট হিস্ট্রি : পৃ.৩৪১।(বঙ্গানুবাদ রেডলাইন পাবলিকেশন)

[64] Rebecca Bynum,Allah is dead:Why Islam is Not a Religion.

[65] এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ,অরিয়েন্টালিজম।( বঙ্গানুবাদ সংবেদ )

[66] ◼️ মডারেট ইসলামের ইতিহাস, রাজনীতি,  মুসলিম দেশে পশ্চিমের এর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার ও প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত বোঝার  জন্য আসিফ আদনান ভাইয়ের ৩ পর্বের ‘র‍্যান্ড,মডারেট ইসলাম,মডার্নিস্ট মুভমেন্ট’ সিরিজটি পড়া আবশ্যক।

এবং আরও দেখতে পারেন –

◼️ ইভান ইয়াজবেক হাদ্দাদ ও টেইলর গলসনের Overhauling Islam: Representation, Construction, and Cooption of ‘Moderate Islam’ in Western Europe’ শীর্ষক প্রবন্ধটি ।

[67] Don’t use girls as justification for bombing Afganistan, again.
openDemocracy,Aug 17,2021.

[68] ইসলামের জ্ঞান অবশ্যই একজন ভালো আলিমের অধীনে থেকে নিতে হবে নাহলে কুরান-হাদীস-ফিক্বাহ নিজে নিজে বুঝতে গেলে অনেক সমস্যা দেখা দিবে । নবিজি সা. আলিমের অধীনে জ্ঞান নেওয়ার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন । ইসলামে জ্ঞান অর্জনের নিজস্ব কিছু পদ্ধতি রয়েছে । ইসলামের জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে জানার জন্য মাসিক আল-কাউসারের ‘ইলম অর্জনের পদ্ধতি:কিছু প্রয়োজনীয় কথা’ প্রবন্ধটি পড়া উপকারী হবে ইনশাল্লাহ ।

 

লিখেছেনঃ আরিফ ইসতিয়াক [আল্লাহ তাকে উত্তম বিনিময় দান করেন] 

Post a Comment

0 Comments