Printfriendly

নামাজ হোক রিয়ামুক্ত


আপনি আপনার শ্বশুর বা নিজের বাবাকে নিয়ে নামায পড়তে মসজিদে গেলেন। নামায পড়ছেন আস্তেধীরে। রুকু-সিজদাহ ভালোভাবে করছেন। বলতে গেলে নামাযের প্রতিটি রোকন পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করছেন। এর পিছনে রয়েছে আপনার কু-মতলব। ঐ যে আপনার পাশে আপনার শ্বশুর বা পিতা বসে আছেন। তাদের সামনে তারাতাড়ি করে নামায পড়লে কী মনে করবে?

যদি আমি আস্তেধীরে নামায আদায় করি, তখন তারা বাহ্ বা দিবে। মনে মনে বলবে, আমার ছেলে দেখি নামাযের প্রতি খুব মনোযোগী! শ্বশুর বলবে, আমার মেয়ের জামাই দেখি মনোযোগ দিয়ে নামায পড়ে! আপনি আপনার পিতা বা শ্বশুরের অন্তরে এই ধারণাটা জন্মাতে-ই আপনি আপনি নানাযের রুকু পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করছেন। অথচ একা হলে নামায-ই পড়েন না। পড়লেও একামতের সময় আসেন, ফরয পড়ে সুন্নাত পড়লে পড়লেন না পড়লে চলে গেলেন।

খ.

আপনি নামায পড়ছেন। আপনার পাশে বসে আছে আপনার উস্তাদ বা সম্মানিত কোন ব্যক্তি। এইজন্য আপনি নামায পড়ছেন আস্তেধীরে। রুকুর তাসবিহ তিনবারের জায়গায় পাঁচবার বা সাতবার পড়ছেন। সিজদাহ্-র তাসবিহ তিনবারের জায়গায় পাঁচবার বা সাতবার পড়ছেন।

ঐ যে আপনার উস্তাদ বা সম্মানিত ব্যক্তিটি আপনার নামায দেখছে। তারাতাড়ি নামায পড়লে তারা কী মনে করবে! এইজন্য আপনি নামাযের রুকন খুব গুরুত্বের সাথে আদায় করছেন। তারা যেন মনে করে, আপনি নামাযে খুব মনোযোগী।

একা হলে চার রাকাআত নামায পারেননা যে একমিনিটে শেষ করে দিতে! সূরা ফাতিহা শেষ করে রুকুতে যেতে যেতে সূরা ইকলাস বা সূরা কাওসার পড়েন। উঠতে উঠতে রুকুর তাসবিহগুলো পড়েন। এক সিজদাহ্ থেকে কোনরকম মাথাটা তুলে দ্বিতীয় সিজদাহ্-ই চলে যান।

গ.

আপনি (মহিলা) কোথাও বেড়াতে গেলেন। যেখানে গিয়েছেন সেখানে সবাই নামাযী। ছোট থেকে বড় সবাই নামায পড়ে। সেখানে আপনি একজন বে-নামাযী গেলেন। ওয়াক্ত হলে পুরুষরা মসজিদে আর মহিলারা ওযু করতে চলে গেলেন। এখন আপনি একা। তারা সবাই নামায পড়বে, অথচ আপনি বসে থাকবেন। তারা নামায পড়বে আপনি না পড়লে তারা কী মনে করবে! এই ভেবে আপনিও নামায পড়তে চলে গেলেন। ঘরে হলে আপনি নামায পড়েন না।

অথবা,

আপনি নামায পড়ছেন। আজকে সুন্নাত, নফলসহ পড়লেন। কারণ, আপনি শুধু ফরয আর সুন্নাতে মুআক্কাদাহ পড়লে পাঁচ মিনিটে নামায পড়া শেষ। তখন মেজবানরা বলবে, ওনি কী নামায পড়লেন? পাঁচমিনিটে যোহরের নামায আদায় করে ফেললেন?

তারা যেন এরকম মনে না করে, তাই আপনি নামায আস্তেধীরে পড়ছেন, নফলও পড়লেন। আপনার মনে হচ্ছে খুব তারাতাড়ি নামায শেষ করে ফেললেন। তাই সময় ব্যয়ের জন্য কিছুক্ষণ জায়নামাযে বসে রইলেন। অথচ আপনি বাড়িতে হলে কোনরকম নামায পড়ে উঠে যেতেন। নামাযে কী পড়লেন, কোন সূরা পড়লেন, নামায শেষে দেখা যায় আর বলতে পারেন না। নফল কখন পড়ছেন আপনার মনে-ই নেই।

এই তিন ব্যক্তি মূলত লোকদেখানো নামায পড়লেন। নামায পড়ার পেছনে এই তিন ব্যক্তির রয়েছে কু-মতলব! তারা রবকে খুশি করতে নামায পড়েনি। পড়েছে, নিজেকে রক্ষা করতে। পড়েছে, সবাই তাকে নামাযী বলুক। সবাই তাকে সম্মান করুক। এগুলো নামায নয়, রবের সাথে মশকরা করা। এই নামায আসমান থেকে পুনরায় ফিরে আসবে। রবের নিকট পৌঁছুবেনা। কাল কিয়ামতের ময়দানে তার কোন জাযা পাবেন না।

তাই বলবো, আপনি যে-ই আমল করুন না কেন— হোক তা ছোট আমল, নিয়্যাতকে সহীহ করুন। আমলটি করার পূর্বে বারবার নিয়্যাতকে যাচাই করুন— নিয়্যাতের মধ্যে কোন সন্দেহ কিংবা লোকদেখানো হচ্ছে কী-না। যদি এমন না হয় ইন শা আল্লাহ আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাযা দিবেন!


লিখেছেনঃ মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম।

Post a Comment

0 Comments