Printfriendly

হিজরিসন অনুস্বরণ সাহাবাদের হারিয়ে যাওয়া সুন্নাত


মহররম মাসের ১ম দিন থেকে হিজরি নববর্ষ শুরু হয়। একে আরবী বা ইসলামি সাল-ও বলা হয়। মহানবী সাঃ এর হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে এ সাল গণনা করা হয়।

আজকের এই  হিজরি সাল সুসংগঠিত রূপ পেতে অনেক সময় লেগেছ। রাসূল (স.) এর জীবদ্দশায় প্রথম ৪০ বছর পর্যন্ত আবরাহা ও হস্তি বাহিনী ধ্বংসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হস্তী সাল গণনা করা হতো। আবু বকরের সময়েও হিজরি সন সুসংগঠিত রূপ পায় নি।

হযরত ওমর রাঃ এর যুগকে ইসলমের স্বর্ণযুগ বলা হয়। তার আমলে ইসলাম আরব অঞ্চল ছেড়ে সারা বিশ্বে প্রসার লাভ করে। হযরত ওমরকে অর্ধ-দুনিয়া পরিচালিত করতে বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নরদের সাথে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করতে হতো। কিন্তু চিঠির মধ্যে তারিখ উল্লেখ না থাকায় এর সময়কাল বুঝতে বিড়ম্বনা পোহাতে হতো। একবার আবু মুসা আসয়ারী রাঃ এই মর্মে ওমরের কাছে চিঠি প্রেরণ করেন যে, আমীরুল মু'মিনীন! আপনার চিঠিতে সাল-তারিখ উল্লেখ না থাকায় আমাদের এর সময় নির্ধারন করতে কষ্ট হয়। অতএব, সন তারিখ নির্ধারন প্রয়োজন। এমনকি ওমর (রা.) একবার কোনো এক মোকদ্দমা সম্পর্কীয় চিঠিতে শুধু শাবান মাস লিখা থাকায় ঘটনার সময় নিরূপন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। তখন তিনি সন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।

সন প্রবর্তনের জন্য ১৭ হিজরীতে সাহাবিদের নিয়ে ওমর (রা.) একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করেন। কতিপয় সাহাবী রোম ও পারস্যের ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর অনুসরণীয় সালকে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিলে, অধিকাংশ সাহাবীই এ মত পছন্দ করেন নি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হযরত উমর (রা.) ও সাহাবীগণ অনুভব করছিলেন যে, সাল গণনা প্রত্যেক জাতির জাতীয় অস্তিত্বের একটি মৌলিক ভিত্তি। নিজস্ব সন তারিখ একটি জাতির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস। যেমন খ্রীষ্টানরা ঈসা (আ.) অলৌকিক জন্ম দিনকে স্মরন করে ঈসায়ী সাল গননা করেন। তাই তিনি রাসূল (সা.) হিজরতের বছর ৬২২ খ্রীষ্টাব্দকে ১ম বছর ধরে ৬৩৯ খ্রীস্টাব্দে  হিজরী সাল প্রবর্তন করেন।

⭐ হিজরি সন অনুসরনের বিধানঃ-

★ হিজরি সন অনুসরণ করা জানাজার নামাজের মতো "ফরজে কেফায়া'। উম্মতের মধ্যে কোন এটি অনুসরণ করলে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে হিজরি সন অনুসরণ করা সুন্নত।

★ মহররমের রোজা রাখা সুন্নতঃ-
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত,
‘রাসুল (সা.) আশুরা ও রমজানের রোজা সম্পর্কে যেরূপ গুরুত্বারোপ করতেন, অন্য কোনো রোজা সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে সেরূপ গুরুত্ব প্রদান করতে দেখিনি।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০০৬, মুসলিম, হাদিস : ১১৩২)

পুনশ্চঃ মহররম/আশুরায় ১ টি রোজা রাখা মাকরুহ। কারণ এতে ইহুদিদের রোজা রাখার সাথে মিলে যায়। সুতরাং মহররমের  ১-১০ তারিখের মধ্যে ২ টি রোজা রাখা সুন্নত। তবে ৯ এবং ১০ তারিখে রোজা রাখা উত্তম।

★ রাসূল সাঃ নতুন বছরে এই দেয়াটি করতে বলেছেন,
”اللھم أَھِلَّہ علینا بالیُمْنِ والإِیْمَانِ والسَّلامَةِ والإِسلامِ، ربِّيْ ورَبُّکَ اللہ“․ (ترمذي ٣٤٥١)

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-য়ুমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি- রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এই চাঁদকে সৌভাগ্য ও ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন।(হে চাঁদ)আল্লাহই আমার ও তোমার রব। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

⭐আমাদের করণীয়ঃ

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যেহেতু দ্বীনে ইসলামের অনুসারীদের তথা মুসলমানদের আদর্শের প্রতীক। তাই সর্বস্তরের মুসলমানদের উচিত এ হিজরী সালের প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং সাহাবাদের একটি সুন্নতকে জীবিত করা।

      লেখকঃ মাশরুর আলম

Post a Comment

0 Comments