Printfriendly

মাস্টারবেশন জীবনের গলায় রশি





শৈশবের দিনগুলো খেলাধুলায় কেটেছে। আবদারের ঝুড়ি নিয়ে পরিবারের কাছে চাওয়া, অবুঝের মতো চাইতেই থাকা, কাঙ্খিত বস্তু না পাইলে কান্না করে জামা ভিজানো, মাটিতে গড়াগড়ি দেয়া ইত্যাদি ইন্টারেস্ট-ফুরফুরে মূহুর্তগুলো হারাতে বসেছে। প্রাইমারীর পাঠ চুকিয়ে সবেমাত্র হাইস্কুলে (মাধ্যমিক) পদার্পন। পুরাতন বন্ধুদের সাথে নতুন বন্ধুদেরও আগমন। তাদের সাথেও বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছে।

শরীরে অন্যরকম ফিল আসছে। হয়ত যৌবনের বসন্ত খুব তাড়াতাড়িই চলে আসবে। ক্লাসের মেয়েদেরকে এখন অন্যরকম দৃষ্টিতে দেখতে ভালো লাগে। তাদের দেখলেই চোখ পুলকিত হয়। একবার তাকালে বারবার তাকাতে মন চাই।আসলে, অন্যরকম একটা অনুভূতি।

১.ফ্রেন্ডসরা ক্লাসে মোবাইল আনতে শুরু করল। এখন নাটক,মুভি -সিনেমার ডায়লগ ঠোঁটে লেগে থাকে। অশ্লীল সিনেমায় নায়ক-নায়িকাদের চুম্বনের দৃশ্য এখন দেখতে মজাই লাগে। ভেতরে লজ্জাবোধ কাজ করে না। অথচ এই আমি বা আমরাই দাদী-নানীর মুখে বিয়ের কথা শুনলে লজ্জায় কেঁদে দিতাম। ভোঁ দৌড় দিতাম।
হঠাৎ একদিন এক ফ্রেন্ড সেক্সুয়াল দৃশ্য ফোনের মেমোরিতে ধারন করে আনল। কয়েকজন ফ্রেন্ড বেঞ্চের কোণায় বসে হা হয়ে দেখছি। ইন্টারেস্ট লাগছে। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে। এ যেন এক অন্যজগৎ। ফ্রেন্ডদের থেকে শিখে নিলাম কিভাবে এই মুভি খুঁজে পাব। বাসায় এসে পরিবারের মেম্বারদের ফোন চুরি করে সার্চ দিয়ে দেখা শুরু। অতঃপর মাস্টারবেশনের পথে অগ্রসর হওয়া। অল্প দিনের পরিচয়ে মাস্টারবেশনের সাথে বেশ বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এখন নিয়মিত কয়েকবার মাস্টারবেশন হয়ে যায়। আর কখনই করব না' বলে বারবার প্রতিজ্ঞা করলেও হেরে যাই। মাস্টারবেশন জীবনের বসন্তকে কেড়ে নিয়েছে। স্বপ্ন,ক্যারিয়ার ধূলিমাখা করে ছেড়েছে।

২. পিতামাতা উভয়ে কর্মে চলে যায়। সারাদিন তারা কর্মে ব্যস্ত। সন্তানকে রেখে যায় কাজের মেয়ের( বুয়া)কাছে। এমন অনেক তথ্য-ঘটনা বিদ্যমান, যেখানে দেখা যায় কাজের মেয়ে মালিকের ছোট্ট-নাবালেগ সন্তানের সাথেই অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।
একই সাথে টিভি অথবা ফোনে অশ্লীল সিনেমা দেখে।
প্রথমে এই শিশু কিছু না বুঝলেও ক্রমেই নীল জগতের প্রতি জ্ঞান বাড়তে থাকে। যৌবনের সুড়সুড়ি আসতে শুরু করলে নীল জগতের পর্দা তার সামনে থেকে খুলে যায়। দিবালোকের ন্যায় সব স্পষ্ট হয়ে যায়।

অথবা পিতামাতা সন্তানকে একা একা বাসায় ল্যাপটপ,ট্যাব অথবা ফোন দিয়ে রেখে যায়। ঘরের কোণায় বসে গেইম খেলতে খেলতে একসময় অন্ধকার জগতের সন্ধান পেয়ে যায়। এ জগতে যতই ব্রাউজিং করা হয় ততই ভালো লাগতে শুরু করে। এ পথে পা বাড়ালে পা অবশ হয় না। চলতেই থাকে। পর্নোগ্রাফির এই আসক্তি মাস্টারবেশনের পথকে সুগম করে। পর্নোগ্রাফি ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডে কেবল মাস্টারবেশনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দ্রুত বীর্যপাতের প্রশিক্ষণ যুবকরা  ভালোভাবেই শিখে ফেলে। তাছাড়া সমকামিতা, পশুকামিতা,[১] শিশুকাম,গ্রুপ সেক্স, পায়ুপথে সেক্স এবং সঙ্গীনিকে মারধোর করার নিঞ্জা টেকনিক এখান থেকেই রপ্ত করে। ধারনা করা হয় যে,সঙ্গিনীকে মারধোর,গলাটিপে ধরা, খিস্তিকেউর করা, জোর -জবরদস্তি করা ইত্যাদিতে সে হয়ত বেশি ফ্যান্টাসিতে ভোগে। বেশি মজা পায়। কী আজগুবি চিন্তাধারা!

৩. অনেক মহিলাদের অভিযোগ আমার স্বামী পর্ণ দেখায় আসক্ত। আমি তার সব চাহিদা পূরণে যথেষ্ঠ এক্টিভ থাকলেও আমার অগোচরে পর্ণ দেখে। পরনারীর প্রতি আসক্ত। ফলাফল আমার কাছে আসলেই, বলে -আমি ট্র‍্যায়াড-ক্লান্ত। এটা বলেই সারাদিন-রাত ঘুমায়।আমার চাহিদার প্রতি তার কোন গুরুত্ব নেই।  কোন কাজ -কাম করে না। ফলে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে। দাম্পত্যজীবন দুর্বিষহ পার করছি। কথায় কথায় ডিভোর্স দেয়ার হুমকি দেয়। মনে হয়  'এ জীবন যেন নরকের জীবন'। আমার খুব ইচ্ছে হয় যে,তার সাথে পূর্ণিমার চাঁদ দেখব,হাতধরে রাতে হেঁটে বেড়াব, গল্প করব ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এসবের প্রতি তার মোটেই ইন্টারেস্ট নেই।
রক্ত-মাংসে গড়া আকর্ষণহীন এক মানব।

৪. হারাম রিলেশনের মরণপাখায় উড়তে থাকা। চ্যাটিং-ফ্যাটিং করে নিজের স্টেটাস উপরে তোলার চেষ্টা করা। অন্যথায় বন্ধুদের কাছে মান -ইজ্জত বলতে কিছু কী থাকবে? এভাবে অশ্লীল কথোপকথনের পায়তারা চালানো। শয়তানী এ কর্মে স্বল্প সময়ে সফলও হওয়া। কথাবার্তার এক পর্যায়ে উত্তেজনার চরম মূহুর্তে মাস্টারবেশন করে ফেলা। অথবা ফিজিক্যাল রিলেশনে জড়িয়ে পড়া। ভিডিও ধারন করে তা নিয়মিত দেখা। গার্লফ্রেন্ডের শরীরের গঠনপ্রকৃতি মস্তিষ্কের মেমোরীতে গেঁথে নেয়া। অতঃপর ব্লাকমেইল এবং নেশার জগতের সাথে পরিচয়। ধীরে ধীরে লাইফের বারোটা বাজানো।

আমি বলব -পর্ণ আর মাস্টারবেশন একই সূত্রে গাঁথা। একই মুদ্রার এপিঠ -ওপিঠ। পর্ণ দেখবে আর মাস্টারবেশন করবে না এটা কাল্পনিক। অবাস্তব। অসম্ভব ব্যাপার। পর্নোগ্রাফি মহামারীর মতো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। 'মহামারী 'শব্দ দিয়েও এর ভয়াবহ দৃশ্য মানুষের সামনে নিয়ে আসা সম্ভব না। ব্যক্ত করাও অসম্ভব প্রায়।

আমরা প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেলেও, একই সাথে গুনাহের পথকেও সুগম করেছি। পরিষ্কার -ঝকঝকে করেছি।  ওয়াজ -তেলাওয়াত লিখে সার্চ করলেও অশ্লীল বিজ্ঞাপন এসে এট্যাক করে। ইসলামী কোন অ্যাপস ডাউনলোড করলে তাতেও বিজ্ঞাপন। আর বিজ্ঞাপনের অধিকাংশ সিন থাকে নারীকর্মীদের দ্বারা তৈরি। নারীকে বাজারের পণ্য বানিয়ে প্রেজেন্ট করা হচ্ছে। নারীকে কেবল ভোগ্য সামগ্রী হিশেবেই মানুষের সামনে আনা হচ্ছে।

পর্ণ আসক্তি যেভাবে ছড়িয়েছে আমার মনে হয় কোভিড-১৯ ও এভাবে বিশ্বে ছড়ায়নি। বর্তমানে পর্ণ দেখে না এমন বালক খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। দেশে ১০ জন বালকের ৯ জনই পর্ণ আসক্তির রোগী। দেশে পর্ণের কিছু পরিসংখ্যান দেখলে আপনাদের মাথা চক্কর দেয়া শুরু করবে। যদিও এদেশে তেমন একটা পরীক্ষা চালানো হয়নি। তবুও ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণীর কিছু ছাত্র-ছাত্রীর উপর চালানো জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর নিজস্ব ফোন রয়েছে। বাকিরা বাবা-মায়ের ফোন ইউজ করে।

৮২ শতাংশ সুযোগ পেলে মোবাইলে পর্ণ দেখে।
ক্লাসে বসে পর্ণ দেখে ৬২ শতাংশ।
৭৮ শতাংশ গড়ে ৮ ঘন্টা মোবাইলে টাইম পাস করে। [২]

এছাড়াও বেসরকারি এক জরিপে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে গান/রিংটোন / ফটোকপির দোকানে দেশে দৈনিক ২.৫ কোটি টাকার পর্ণ বিক্রি হচ্ছে। [৩]
 সেক্স শব্দটি গুগলে সার্চ করা হয়েছে ২.২ মিলিয়ন বার। পর্ণ শব্দটি সার্চ করা হয়েছে ০.৮ মিলিয়ন বারেরও বেশি। [৪]

কোনো বাবা-মা'ই বিশ্বাস করতে চান না যে,তাদের সন্তান পর্ণ দেখার মতো এতটা নিচেই নামতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। সিকিউরিটি টেকনোলজি কোম্পানি' Bitdefender ' এর গবেষণা অনুযায়ী পর্ণ সাইটে যাতায়াত করা প্রতি দশজনের মধ্যে ১ জনের বয়স দশ বছরের নিচে। আর এই দুধের বাচ্চাগুলো রেইপ পর্ণজাতীয় জঘন্য জঘন্য সব ক্যাটাগরির পর্ণ দেখে। [৫]
 
'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ' পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, পর্ণ ভিডিওতে আসক্ত রাজধানীর ৭৭ শতাংশ কিশোর।
অবস্থার ভয়াবহতা ফুটে উঠে সময় টিভির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও। [ ৬]

ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর ম্যান এন্ড ম্যাসকুলিনিটি স্টাডিজের ( সিএমএসএস) যৌথ উদ্যোগে 'ব্রেভম্যান ক্যাম্পেইন ' এর অংশ হিশেবে স্কুল পর্যায়ে শিশু -কিশোরদের পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি এবং এ থেকে উত্তরনের উপায় বের করতে  একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। এই গবেষণায় উঠে এসেছে দেশে স্কুলগামী কিশোরদের ৬১ দশমিক ৬৫ শতাংশ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।
২০১৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত এ গবেষণা চালানো হয়।  [৭] 

পাশ্চাত্যের তৈরি এবং প্রমোটেড সেক্স্যুয়াল মুভির দৃশ্য দেখিয়ে বিলিয়ন- বিলিয়ন টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র।দালাল চক্র নীল জগতের পরতে পরতে আকর্ষণীয় দৃশ্য ধারন করে তা বিভিন্ন ব্রাউজারে রিলিজ করছে। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তি আর খাদ্য অন্বেষণে আসা পাখির মাঝে কোন পার্থক্য নেই।পাখি লাল টকটকে, রসালো ফলে ঠোকর দেয়। লোভ সামলাতে না পেরে কয়েকটা ফলে ঠোকর দিতেই থাকে। হঠাৎ শিকারীর ফাঁদে আটকে যায়। অনুরুপ একজন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তি। মজা থেকে আরও মজা পেতে সার্চ লিস্ট পরিপূর্ণ করতে থাকে। কিছু ইউনিক খোঁজার চেষ্টা করে।

পাশ্চাত্যের দালাল চক্রদের অন্যতম আরেকটি ফাঁদ হলো যে,এরা পাশ্চাত্যের চশমা লাগিয়ে, মস্তিষ্ক নিজেদের আয়ত্তাধীন রেখে বিভিন্ন সময়ে কিছু ভন্ড গবেষককে ছেড়ে দেয়।  যখনি এদের ব্যবসায় ভাটা পড়ে তখনি মাঠে ভন্ড গবেষক ছেড়ে দেয়। গবেষকরা 'মামার বাড়ির আবদারের মতো' যা ইচ্ছা তাই করতে থাকে। ধর্মকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বিজ্ঞানী অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে মাস্টারবেশন, এনাল সেক্স, ওরাল সেক্স, সমকামিতা,পশুকামিতা এবং চাইল্ড সেক্সকেও বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করে। মিথ্যা যুক্তির ঘোরপ্যাঁচে ফেলে এ জাতীয় অশ্লীল কর্মের ক্ষতিকর দিকগুলোকে ধামাচাপা দেয়ার প্রয়াস চালায়।

দালাল চক্র সুপরিকল্পিত চিন্তাভাবনা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ভালোবাসার ফানুস  ধরতে নারীকে ঘরের বাইরে বের করেছে। অতঃপর ছলে বলে -কৌশলে নারীর বস্ত্রহরণ করে উলঙ্গ করতঃ বাজারে প্রেজেন্ট করেছে, পুরুষের থালায় উপস্থাপন করেছে। এভাবেই এক আকাশ স্বাধীনতার প্রলোভন দেখিয়ে বানিয়ে ফেলল পুরুষের যৌনদাসী। অন্যদিকে পর্ণ সাইটের উন্নতিসাধন করে শিশুদের যৌননিপীড়ক [৮]হতে বাধ্য করল।

পর্নোগ্রাফি আর মাস্টারবেশন হাত ধরে পাশাপাশি চলা সহোদর দুই ভাই। উভয়টায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিমিষেই ধুলিষ্মাৎ করে দেয়। বুকের যমিনে স্বপ্নের বপনকৃত বীজে চৈত্রের খরা দিয়ে অঙ্কুরোধগমে বাঁধা হয়ে চিরশত্রু হয়ে আবির্ভাব হয়।

-ক্ষতিকর প্রভাব: পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। 
পর্ণ একটি স্লো পয়জন যা মানুষকে শারীরিক,মানসিক ও সামাজিকভাবে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেয়।
পর্নোগ্রাফি আর মাস্টারবেশনে আসক্ত ব্যক্তি কেবল নিজে ভোগে না বরং পুরো একটা পরিবারকে এর যন্ত্রণার তীব্রতা ভোগায়।এটা খুবই ভয়াবহ একটা দিক।  বই-খাতা ছুঁড়ে ফেলে সারাদিন ফোনের স্ক্রিনে আনমনে তাকিয়ে থাকে। ঠান্ডা স্যাঁতসেঁতে,নিরব-নিরিবিলি পরিবেশ ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না। বাবা-মা কোন কাজের আদেশ দিলে তাদেরকে রাগ দেখায়। গালীগালাজ করে। এমনকি গায়েও হাত তোলে।

পূর্বেই বলেছি দাম্পত্যজীবনে কলহ সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর প্রতি অনীহা চলে আসে।  প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক যৌণতায় সুখ খুঁজে পায় না। অবৈধ পন্থা অবলম্বনে মস্তিষ্ক সাড়া দেয়। স্ত্রীকে দেখলেই রাগ হয়। সন্তানদের কোন হক্ব আদায় করে না। তাদের পড়াশোনার প্রতি কোন গুরুত্ব দেয় না। ফলে নিরক্ষরতার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের ফলে হতাশা-নিরাশা, দুশ্চিন্তা, মস্তিষ্কে ডোপামিনের অভাব, মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা র মতো ভয়ঙ্কর রোগ বাসা বাঁধতে থাকে। অবশেষে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন [Erectile  Dysfunction ] ED অর্থ্যাৎ যৌণ অক্ষমতা দেয়া দেয়। এমনকি ১৮ বছরের একজন কিশোরকে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে আক্রমণ হওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে। অকাল বীর্যপাত, প্রজনন অঙ্গ আকারে ছোট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ এই মাস্টারবেশন। তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে, অবশেষে শুরু হয় সাইক্রিয়াটিস্ট ডক্টর আর হারবাল কোম্পানির কাছে যাতায়াত। হারবাল সেবনে স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আল্লাহ প্রদত্ত যৌনশক্তির অপব্যবহার হয়।

মাস্টারবেশনের কুফল সহস্রাধিক। যতই কুফল বর্ণনা করবেন ততই সামনে আসতে থাকবে।
মাস্টারবেশনের ফলে অল্প বয়সেই বয়স্ক দেখা যায়। রোগা দেখা যায়। ব্রেইনের কার্যক্ষমতা লোপ পায়। মাস্টারবেশন না করা একজন ব্যক্তির মস্তিষ্ক চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে যেমন প্রসরতা হয় অনুরুপ একজন মাস্টারবেশনে আসক্ত ব্যক্তির তা হয় না। শরীরের প্রতিটা হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হয়। একটু শক্তি চঞ্চয় হলেই আবার মাস্টারবেশন করতে মন চায়। সারাদিন ঘুম লেগে থাকে চোখে। দুর্বল দেখায়। ফলে কর্মে তেমন একটা এক্টিভ হওয়া যায় না। একদিন কাজ করলে দু'দিন ঘুমিয়ে কাটায়। এই দু'একদিন কর্মের মাঝেও ফাঁকি দিয়ে পর্ণ দেখায় ব্যস্ত হয়ে যায়। ফলে ভবিষ্যৎ ক্যারেক্টর হুমকির মুখে পড়ে।

এতে করে দেশের অর্থনৈতিক খাতে দিনদিন ভাটা পড়ছে। কর্মঠ নাগরিকের অভাবে দেশ বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। সমাজ কুঁড়ে,  উদ্যমহীন ব্যক্তিকে বহন করতে চাচ্ছেনা। বোঝা হিশেবে দেখছে। একটা পরিবারের সকল আশা -ভরসা জলে চলে যাচ্ছে। হাজারও বাবা-মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ কেবল চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   আরও বিস্তারিত জানতে.... [৯]

 উত্তরণ /মুক্তি ঃ
 আমার দ্বারা সম্ভব না। আমি পারব না। এজাতীয় কথা থেকে বিরত থাকতে হবে।নিজের প্রতি আত্মসম্মানবোধ বাড়াতে হবে। আত্মবিশ্বাসকে দূর্গের প্রাচীরের ন্যায় শক্ত করতে হবে। 
মনস্থির করতে হবে এবং দাঁতে দাঁত চেপে একেকটি দিন পার করতে হবে। তাকওয়ায় নিজেকে মোড়াতে হবে। তাকওয়ার সঠিক মর্ম উপলব্ধি করতে হবে এবং বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। বিয়ের পরে ঠিক হয়ে যাবে, এটা বলা মুশকিল। কারণ, গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিয়ের পরেও স্বামী -স্ত্রী উভয়ে পর্ণ আসক্ত। সুতরাং তাকওয়াই হলো আসক্তি থেকে পরিত্রাণের অন্যতম সর্বোচ্চ উপায়।

নামাজে নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে। অত্যন্ত পাঁচওয়াক্ত নামাজে কিছু সময় আল্লাহর স্মরণে কেটে যাবে। অনেক সময় মাসজিদে দ্বীনি বিষয় আলোচনা হয়। এমন মাজলিসে বসলে কুরঅান- হাদিসের জ্ঞান বাড়বে। একই সাথে গুনাহের পথ রুদ্ধ হবে।
 
দৃষ্টি সংযত রাখতে হবে। কেননা,দৃষ্টির পথ হয়েই গুনাহের পথে যাত্রা শুরু হয়। বেগানা নারীর দিকে চোখ পড়া মাত্রই নিচু করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহ অথবা মাসে রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। হাদিস দেখুন -[১০]

নেককার বন্ধুদের সোহবতে আসতে হবে। কেননা, শৈশবে বন্ধু নির্বাচনে ভুলের পথ ধরেই নীল জগতের সাথে পরিচয় হয়। ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডে ভ্রমণ, কিছু বদকার বন্ধুর দিক-নির্দেশনায় হয়ে থাকে।  'সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ '।

আখেরাতের বিশালতার কাছে দুনিয়ার সামান্য ইন্টারেস্টকে তুচ্ছজ্ঞান করতে হবে। অন্তরকে প্রবোধ দিতে হবে যে,আমার জন্য জান্নাতে চিরস্থায়ী সুখ অপেক্ষা করছে। পর্ণ দেখার ভূত মাথায় চাপা মাত্রই জান্নাত -জাহান্নাম সম্বলিত আয়াতগুলো অধ্যায়নের চেষ্টা করতে হবে। রুটিনমাফিক জান্নাত-জাহান্নামের আয়াতসমূহ থেকে কিছু কিছু অধ্যায়ন করতে হবে। দিনের একাংশে কবর স্থানে গিয়ে কবরবাসীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আসতে হবে। মৃত্যুর স্মরণে নিজেকে সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)ন্যায় তুলে ধরতে হবে। তাদের ছবি নিজের ভেতরে এঁকে ফেলতে হবে। তাদের ন্যায় ভয়-ভীতির বীজ ভেতরে বপন করতে হবে। 

সন্তানকে একা ছেড়ে দেয়া যাবে না।কোথায়, কার সাথে উঠাবসা করছে তা খোজঁ খবর নিতে হবে। বন্ধু নির্বাচনে সন্তানকে সুপরামর্শ দিতে হবে। এবং সাহায্যও করতে হবে।

যতবেশি পারা যায় বই পড়ায় মনোযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে অশ্লীল উপন্যাস এবং চটি সম্বলিত বই পরিত্যাগ করতে হবে। মুক্ত বাতাসের খোঁজে, অভিশপ্ত রংধনু, ঘুরে দাঁড়াও, ষোড়শ ম্যাগাজিন ইত্যাদি বই পাঠ করা যেতে পারে। মোবাইল ইউজ করার সময় ক্রমেই কমিয়ে ফেলতে হবে।

যথাসম্ভব একাকী -গোপনে সময় কাটানো থেকে বিরত হতে হবে।
সাওবান (রা:) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমি আমার উম্মতের কিছু দল সম্পর্কে নিশ্চিত জানি যারা কিয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমল সহ উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। সাওবান (রা:) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বলেন: তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে, একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হবে।[১১]

যিকির -ওজিফায় সময় ব্যয় করতে হবে। আল্লাহর স্মরণ গুনাহের দিকে ধাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে দূর্গ হবে। ইনশা আল্লাহ।
এছাড়াও বিভিন্ন দোয়া মুখস্থ করে তা বেশি বেশি পড়া।
اللهم اغْفِرْ ذَنْبِي وَطَهِّرْ قَلْبِي، وَحَصِّنْ فَرْجِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির যাম্বী- ওয়া ত্বহহির ক্বলবী- ওয়া হাসসিন ফারজী-
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন। আমার অন্তরকে পরিষ্কার করুন এবং আমার সতীত্ব রক্ষা করুন। [১২]

অন্য হাদিসে -
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন শাররি সাম‘ঈ, ওয়া মিন শাররি বাসারী-, ওয়া মিন শাররি লিসানী, ওয়া মিন শাররি ক্বালবী, ওয়া মিন শাররি মানিইয়ী।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মন্দ কিছু শোনা থেকে, মন্দ কিছু দেখা থেকে, মন্দ কিছু বলা থেকে, আমার অন্তরের খারাপি থেকে এবং আমার দৈহিক কামনা বাসনার খারাপি থেকে। আরও বিস্তারিত জানতে এবং শিখতে..... [১৩]

এইবার শেষ। এইবার শেষ। সামনে আর করব না। এই বিষাক্ত কথাকে পরিত্যাগ করে, কুপ্রবৃত্তির চাওয়া-পাওয়াকে দাফন করে ফেলতে হবে ।

পর্ণ বর্তমানে ড্রাগসের মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পর্ণ দেখতে মন চাচ্ছে, সার্চ করেই দেখা শুরু করলেন। দেখা শেষ হওয়া মাত্রই হিস্ট্রোরি (History) থেকে তড়িঘড়ি করে সার্চলিস্ট মুছে ফেলে হাফ ছেঁড়ে বাঁচলেন। কিন্তু কিরামান ক্বাতীবীনের খাতায় উঠে যাওয়া হিস্ট্রোরি কিভাবে মুছবেন?

নীল দুনিয়ার অন্ধকার জগতকে বিদায় জানিয়ে আল্লাহর প্রদত্ত দুনিয়ার নিয়ামতরাজী উপভোগ করুন। কোনাচে ব্যাঙের মতো ঘরের কোণায় বসে না থেকে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বের হয়ে পড়ুন। গ্রীষ্মের এই মৌসুমে আম-কাঁঠাল পেঁকে গাছে পঁচে যাচ্ছে।ফলমূল আপনার অপেক্ষায় আছে। কিন্তু আপনার দেখা নেয়।
বাগানে গিয়ে নির্মল বাতাস গ্রহণের সাথে সাথে গাছে উঠে ফল পেঁড়ে ভক্ষণ করুন। পাখির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন। বাড়ির পাশে ফুল বাগান করে,নিয়মিত তাতে হেঁটে বেড়ান। মাঝে মাঝে নদীর পাশে বসে পানির কলকল শব্দ শ্রবণ করুন। মনে হবে এ যেন জান্নাতের স্রোতস্বিনী।  দুনিয়াতেই জান্নাতের নিয়ামাহ উপভোগ করুন। দুনিয়াতেই জান্নাতের সুখ অনুভব  করুন।

পরিশেষে ড. হেনরি ফোর্ডের বিখ্যাত উক্তি দিয়েই লেখার ইতি টানব।

যদি ভাবেন আপনি পারবেন, তাহলে আপনি ঠিক। যদি ভাবেন আপনি পারবেন না, তাহলেও আপনি ঠিক। দিন শেষে আপনার ভাবনাই ফলাফল বয়ে আনবে। তাই ভাবুন কেমন ফলাফল পেতে চান? [১৪]
              -'হেনরি ফোর্ড '

রেফারেন্স :-
[১]
https://eisamay.indiatimes.com/lifestyle/health-fitness/i-am-addicted-to-beastiality-please-help/articleshow/51097401.cms
https://www.facebook.com/734548649918721/posts/965480160158901/?app=fbl
https://kolabiggani.blogspot.com/2018/03/blog-post_99.html?m=1
https://sotterchaya.blogspot.com/2017/08/blog-post.html?m=1
[২]
 ঘুরে দাঁড়াও (পৃষ্ঠা নং:৮-৯)
[৩]
An Investigative tv report by Farabi Hafiz ( https://m.youtube.com/watch?v=jUxXQB8pW7s)
[৪]
http:// bartanangla.com/english/internet-porn-affinity-increaing-into-bangladeshi-youth/
[৫]
 http://bit.ly/2fdByla
[৬]
https://www.youtube.com/watch?v=jUxXQB8PW7s
[৭] 
https://bit.ly/2PizTm7
[৮]
Exterme internet porn is fuellaing a surge in sex attacks by Children.Number of Under 17s convicted of rape almost double's in four years https://goo.gl/X9m6H8

Sex before kissing: How 15 Year -Old Grils are dealing with porn-obsessed Boys -
https://goo.gl/bFUK

Boy who Raped sister After watching pornography sentenced-
https://goo.gl/UXMHa2

ধর্ষণ- খুনে এক কিশোরের তেলেসমাতি -
https://goo.gl/QqXcRZ

Boy, 14, raped girl aged ten after watching online porn
https://goo.gl/seKvxs
https://goo.gl/h31twR
https://goo.gl/LRfx80
https://goo.gl/LRfx80
[৯]
http://lostmodestypdf.blogspot.com/2018/08/blog-post_21.html?m=1
http://lostmodestypdf.blogspot.com/2018/08/blog-post.html?m=1
http://lostmodestypdf.blogspot.com/2018/08/blog-post_23.html?m=1
http://lostmodestypdf.blogspot.com/2018/08/blog-post_16.html?m=1
http://l.facebook.com/l.php?u=http%3A%2F%2Fwww.fightagainstd.org%2F&h=AT3gZ476ziNWfcJ_dePOWESxPVwbKslO1lLo8PtxQZZeYtAV5CpgIP9NCOJffDJIRxr17fwkJdqwioUhC5rnPVppQJ8l31Z-n0_PjLJ5Fmq7XJenjZTi1JsyfPyU4xSQyK7sY2cCdQ
https://www.bbc.com/bengali/news-54684099
https://www.facebook.com/voiceofmoments/photos/a.677973932251705/989894211059674/?type=3&app=fbl।
[১০]
সহীহ বুখারী, অধ্যায়: বিয়ে -শাদী (হাদিস নং, ৫০৬৬)।
[১১]
 সুনানে ইবনে মাযাহ (হাদিস নং, ৪২৪৫)
[১২]
(আহমদ- হাদিস নং,২২২১১)
[১৩]
(আবু দাউদ ১৫৫১, তিরমিযী ৩৪৯২, নাসাঈ ৫৪৪৪,৫৪৫৫)
https://ruqyahbd.org/blog/533/porn-addiction-and-musterbation
https://www.banglafeeds.info/2019/12/how-to-avoid-porn-bangla.html?m=1
[১৪]
 ঘুরে দাঁড়াও,( পৃষ্ঠা নং -১২)।
 
_শারাফাত আহমাদ

Post a Comment

0 Comments